Saturday, February 9, 2019

273>||- ঘুরে এলাম স্বর্গ -||

  273>||- ঘুরে এলাম স্বর্গ -||
             <---©-আদ্যনাথ--->

ঘুরে এলাম স্বর্গদুয়ার,
স্বর্গের সাত দুয়ার।
প্রথম দুয়ারে আছেন যম রাজের চেলা,
কি সব হিসাব নিয়ে করছে খেলা।
শুধাইলাম তারে,
এত ব্যস্ত কিসের তরে?

দেখছ না কতো আসছে,
কতো যাচ্ছে মুহূর্তে।
সকল হিসাব দিতে হয় ব্রহ্মা সনে,
তাই হিসাব মিলাইতে ব্যাস্ত এই ক্ষণে।

আমাদের হিসেব কোথায়?
সে আছে চিত্রগুপ্তের খাতায়।
তোমার তো আর মরে আসনি,
তোমরা আহূত দেখতে প্রদর্শনী।
তোমাদের হিসাব রাখেন নন্দী,ভৃঙ্গী।

আমার কাছে তাদের বায়োডাটা,
যাদের ডাইরেক্ট এন্ট্রি টু উদ্যান,
অ্যান্ড ব্যাক টু মর্ত।
এদের আসা যাওয়ার আছে সর্ত,
কেউ একদিন, কেউ সাত বা একুশ দিন।
যে যেমন জমিয়েছে পূণ্য।

তোমাদের তো এন্ট্রি সপ্তম গেট,
তোমরা ইন্দ্রসভায় আহূত গেস্ট।
আর বাকি গেট গুলি কাদের?
2 এণ্ড,3র্ড এণ্ড 4র্থ
ওগুলি আমার প্রভু যম রাজের গেট
যার যেমন পাপ তার তেমন গেট।
কোনোটায় গরম তেলে হবে ভাজা
কোনোটায় করাত দিয়ে হবে কাটা।
আরো আছে শাস্তির বিধান ব্যবস্থা।
আর ওই 6 ষ্ঠ ও 7 ম দুয়ার,
ওদুটো ইন্দ্রাসনের দুয়ার।
আর ওই 5 ম দুয়ার,
ব্রহ্ম লোকের দুয়ার।


তোমার নাম কি ভাই,
আমরা যমদূতের চেলা,
আমাদের নাম থাকেনা।
ঠিক আছে ঠিক আছে,
তবে এইটুকু বলবে,
স্বর্গের আসোল মজা কোথায়?

কেন ঐযে স্বর্গোদ্যানে,
সেখানে যা চাইবে তৎক্ষণাৎ পেয়ে যাবে।
ভুলেও যেওনা শিবলোক যেথায়,
ভাংআর গাঁজার ধোঁয়ার নেশায়,
পালাবার পথ পাবেনা হেথায়।
তার উপরে ওখানে আছে হোৎকা দুটো,
ওই নন্দী ভৃঙ্গীর শিং এর গুতো।

কেন কেন মা দুর্গার পাবোনা দেখা।
মা কে পাবে কীকরে?
মা তো ব্যস্ত গনেশের আবদার মেটাতে।
তবে মায়ের কাছে খুব সাবধান,
ওখানে আছে সিংহ, মহিষাসুর দারোয়ান।
স্বর্গে মায়ের দেখা পাওয়া গন্ডগোল,
ভোলেনাথ ক্ষেপে গেলেই বোল হরি বোল।

আর ঐযে ব্রহ্ম লোক,
ওখানে পরম সুখ জলে দিয়ে ডুব।
কিছু বুঝলে কি?
ব্রহ্ম লোক মানেই ব্রহ্মার কমন্ডুল,
শুধু জল আর জল ,
মনের আনন্দে ভাসবে জলে।
হাতে কমল ফুল নিয়ে।

তবে স্বর্গে নাকি সকল সুখ,
সে সুখ পাবো কোথায়?
সুখের চিন্তা স্বর্গে করতে নাই,
সুখ বলতে স্বর্গোদ্যানে পাবে যাচাই।
খাও আর ঘুরে বেড়াও আনন্দে,
যেথা খুশি যাও মনের আনন্দে।

আর ওই ইন্দ্রের সভা,
ওখানেই আসোল মজা।
সে তো রাজার সভা,
ওই সভায় যে যায় সবাই রাজা।
অপ্সরা, কিন্নর,আরো কতো সুন্দরী,
কেউ করবেনা মানা যেমন করো ফুর্তি।

স্বর্গে রোগ বালাই নাই,
তাই বি ডি র ভয় নাই।
হেরেম্বা,উর্বশী, কতো রূপসী আছে,
যাকে মনে ধরে ডেকে নেও কাছে।
দিন রাত অফুরন্ত আনন্দ রসে বসে,
সূরা,নারী,সোমরস, যেমন ধরে মনে।
সকল কিছুর বর্ণনা সম্ভব,
স্বর্গীয় সুখের বর্ণন অসম্ভব।

শুধু এই টুকু রেখো মনে,
স্বর্গে এসে গৌর নিতাই সেজে,
থেকোনা নামাবলী গায়ে জড়িয়ে।
স্বর্গে কিছুই নাই ব্যভিচার আচার বিচার,
মনের ইচ্ছা পূরণই স্বর্গের সদাচার।
মন যাচায় তেমনি করাই উচিত বিচার,
তাইতো বলে স্বর্গীয় সুখ অচিন্ত্য অপার।
এমন সুখ পেতে কতো জন্ম হয় পার,
তবুও জোটেনা এমন সুখ সবাকার।
ঘুম ভাঙ্গতেই লিখলাম রাত্রের সমাচার।
       
     【--anrc-07/02/2019--】
     【=রাত্রি:03:08:22am=】  【=বেলঘড়িয়া=কোলকাতা -56=】
=========================

No comments:

Post a Comment