(সত্য ঘটনা অবলম্বনে ঘূর্ণি ঝড়ের কবলে
29th Nov 1988 সুন্দর বনের
গোসাবা, দুলকি )
--শিয়রে শমন::----
মৃত্যু কে দেখেছিলাম,
একেবারে কাছে থেকে।
মৃত্যুই যেন তার প্রতিকার,
চারিদিগে মৃত্যুর হাঁ-হাঁ কার।
এ কেমন বিচার?
ছিল সঙ্কেত পূর্বাভাস।
হঠাৎ শিয়রে দণ্ডায়মান,
মূর্তিমান মৃত্যুর দূত।
সেদিন এক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি ঝড়,
লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গেল পন্ড।
প্রবল বায়ুর বেগে,
ভয়ে কম্পমান,
দিক দিশার পাইনি অন্ত।
অন্ধকারে জন্ম নিল অসহায় শিশু।
মৃত মাতৃ ক্রোড়ে প্রবল আর্তনাদ,
জন্ম মুহূর্তে চিৎকার আর্তনাদ,
ঊর্ধ্বমুখে মুষ্ঠিবদ্ধ দুটি হাত,
এবং নিতান্ত ক্ষুদ্র দুটি পা,বার বার,
চাইছে আকাশটাকে ঠেলে দিতে।
নিজের স্থান নিজেই গড়ে নিতে,
ক্রম বর্ধমান চিৎকারে।
রক্তে মাখা মাখি,
মা ও শিশুর---
রক্ত মিলে মিশে একাকার,
চারিদিক ভীষণ অন্ধকার,
শুধুই মৃত্যুর বিভীষিকা হাঁ-হাঁ কার।
সেদিনের ঘূর্ণি ঝড়ে,
মৃত্যু হয়েছিল যাদের।
তাদের মধ্যে ওই সদ্যজাত--
নিষ্পাপ শিশুটির মা ও ছিলেন।
চারিদিক আন্ধকার।
সেই ক্ষনে জনমানব বলতে,
ওই শিশু টি ও আমি।
হারিয়ে গেল আবদুল ও তাঁর মা,
কোথায় যে গেল, কি হোল জানিনা।
আর কোনদিন খুঁজে পাইনি ওদের।
প্রকৃতি ভীষণ মৃত্যু তান্ডব চালিয়ে,
হঠাৎ যেন একটু থমকে ছিল।
তুলে নিয়ে ছিলাম,
খুব সাবধানে।
ভয় করছিল, অপরিষ্কার হাত।
উপায় কোননাই,
তুলে নিয়েই দিয়েছিলাম ছুট,
কাছের কোন চিকিৎসালয়ের খোঁজে।
চারিদিকে শুধুই ধ্বংসলীলা।
অন্ধকারক্রমেই বাড়ছে।
তবুও ছুটছি,
জানিনা কোন দিগে যাব।
শুধুই ধ্বংসলীলা স্তূপাকার,
জন মানব শূন্য।
পথে মিললো শৃগাল ও
ওই জাতীয় কিছু,
তারাও আমার মতন,
প্রাণে বাঁচতে চায়।
তাই দৌড় আর দৌড়।
তারপরে সব অন্ধকার----
যখন চোখ খুললাম,
দেখি অনেক ডাক্তার দাঁড়িয়ে,
আমাকে ঘিড়ে।
এস এস কে এম সাসপাতালের
ইমারজেন্সি বেডে।
অনেক পরে জেনে ছিলাম।
কারা কেমন করে এনেছিল আমাকে এখানে,
আমি নাকি তিন দিন অজ্ঞান ছিলাম।
প্রচন্ড আঘাতের কারণে।
জেনেছিলাম,শিশুটিকে,
এক মিলিটারি কর্নেল নিয়েছেন দত্তক।
এক নারকীয় ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি ঝড়ের সাক্ষি।
আজ অনেকদিন সুদীপাকে দেখিনি,
ওরা এখন নাকি বিশাখাপত্তমে থাকে।
ওরা জানিয়ে ছিল কিছুদিন আগে,
সুদীপার সন্তানের বৎসর পূর্তিতে।
আমি যোগাযোগ করতে পারিনি।
ওরা স্বামী স্ত্রী দুজনেই,
পোর্টে চাকুরী করে।
সেই ভয়ঙ্কর সেদিনের পরে,
একবারই হয়েছিল দেখা খড়্গপুরে।
তখন সুদীপা কলেজে পড়ে।
আহা কি শান্ত নম্র মেয়েটি,
সেই ভয়ঙ্কর তান্ডবের চিহ্ন মাত্র নাই।
||----anrc---27/01/2018-----------------||
||========================||
( অনেক জটিলতা ও বিশেষ শর্তাবলির কারনে কিছু পরিবর্তন করা হোল )
No comments:
Post a Comment